About Us | Contact Us |

সন্ত্রাসের সাহিত্যিক

সন্ত্রাসের সাহিত্যিক

সারা পৃথিবীতে মুসলমান কমিউনিটি সন্ত্রাস তৈরী করেছে, জাতীয় বক্তব্য তিলোত্তমার। এই সন্ত্রাস বাদীরা খুন করে, রক্তপাত ঘটায় সর্বত্র। তাই যারা অনুপ্রবেশকারী সেই মুসলমানদের, যাদের সে (তিনি-ফিনি বলতেও ঘেণ্ণা লাগে এর জন্য) জন্ম থেকে তার পাশে দেখেনি, বাংলায় কথা বললেও, তাকে তার দুশমন বলে মনে হয়। মনে হয় ছদ্মবেশে সন্ত্রাসবাদী দলের সঙ্গে যুক্ত। এই সন্দেহ আসে।

 

আসলে বাংলা সাহিত্যের তথাকথিত বড়োবাজারে সে সব লেখকদেরই লেখা ছাপা হয় যারা মূলত মূর্খ, অশিক্ষিত এবং বড়বাজারের প্রকাশ্য ও গোপন সাম্প্রদায়িকতাকে বহন করে। জাতপাতকে মহান করে দেখে, ধনীর বিরুদ্ধে কথা বলে না, রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করার সাহস যাদের নেই, মানবাধিকার নিয়ে মাথা ঘামাবার বদলে ঐ বাজারের আভ্যন্তরীণ রাজনীতি আর পুরস্কারের লোভে পা-চেটে মরে, এমন সব লেখকদের তারা জায়গা দেয়। দু-একজন অন্য সম্প্রদায়ের লেখক কিংবা সামান্য মিষ্টি করে বকা দেওয়া লোকও তারা রাখে। কিন্তু বেগড়বাঁই করলে ওসব জায়গায় লেখা খতম করে দেয়। ঐ ধারাতেই বড় প্রকাশনাতেও এই জাতীয়দেরই রমরমা।

 

কথা হচ্ছে তিলোত্তমা কোনোদিন এরিয়ান নেশন, ক্লু ক্লুক্স ক্ল্যানের নাম শোনেনি। তাদের ক্রিশ্চিয়ান এবং শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাস জানে না। গোটা ইউরোপে ক্রিশ্চানিটি ছড়ানোর জন্য প্যাগানদের বিরুদ্ধে একদা নামিয়ে আনা ভয়ঙ্কর সন্ত্রাস সে জানে না। ক্রুসেড সম্পর্কে স্রেফ অজ্ঞ। আবার বৌদ্ধ বলে খ্যাত জাপানের দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের নৃশংসতা, শ্রীলঙ্কা কিংবা মায়ানমারের বৌদ্ধ শাসকদের ভয়াবহ ভাবে সংখ্যালঘু খুন, ধর্ষণ, উচ্ছেদ, দেশ থেকে তাড়ানো এসবও সে দেখতে চায় না। কিংবা ধরুন সি আই এ-এর মালিক মার্কিন বুশের রাসায়নিক অস্ত্র ও অন্যান্য ভয়ঙ্কর অস্ত্র রাখার মিথ্যে অভিযোগে ইরাক ধ্বংস করে মধ্যপ্রাচ্যকে প্রায় অর্ধশতাব্দী ব্যাপী ধ্বংস আর যুদ্ধে ঠেলে দেওয়ার কথা সে মনে রাখে না। মনে রাখে না এখনো ইহুদী নাম নিয়ে কেমন করে প্যালেস্তাইন ধ্বংস করছে ইহুদী জায়নবাদীরা। অর্থাৎ সব ধর্মেরই কিছু লোক ধর্মের নামে সন্ত্রাস করে মুখ্যত ধনী থেকে ধনীতরদের হাতিয়ার হয়ে আরো শোষণের ব্যবস্থা করতে, এ সম্পর্কে তার হয় স্পষ্ট ধারণা নেই, নয় সে নিজেই এমন এক হাতিয়ার হয়ে উঠতে চায়।

 

আর ভারতের কথা? গো মাংসের জন্য পিটিয়ে, পুড়িয়ে মারা, দলিত ধর্ষণ, হত্যা, লাভ জিহাদের নামে অনায়াস খুন ও রক্তপাত তার চোখেই পড়ে না। গোবলয় এবং বিজু শাসিত রাজ্যগুলোতে যে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে তা নিয়েও তার বক্তব্য নেই। বাঙালিদের জেসিবি করে বাংলাদেশ সীমান্ত পার করে ছুঁড়ে ফেলে দিলেও সে দেখতে পায় না। অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বিবিকে দেশছাড়া করা মোশার শাসন নিয়ে তার মাথাব্যথাও নেই। প্রদীপ করের আত্মহত্যা কিংবা খাইরুল শেখের আত্মহত্যার চেষ্টা তাকে ভাবায় না। কারণ এদের কাউকে সে জন্ম থেকে পাশে বেড়ে উঠতে দেখেনি।

 

দেখবে কেমন করে? তথাকথিত হিন্দু বৃত্তে, সম্পদের মধ্যে বেড়ে ওঠা একজন হিন্দু বাঙালি সে। সন্দীপনের ভাষায় 'বালে', বাঙালি লেখক। কোনোদিন প্রশ্ন করেনি কেন নগরে ও গ্রাম-মফস্বলে একই অঞ্চলে মেলামিশি করে হিন্দু-মুসলমান ইত্যাদিরা থাকে না। কেন সব আলাদা আলাদা ঘেটো করে বাঁচে। কেন হিন্দু বড়জাতের সঙ্গেও হিন্দু ছোটজাত একত্রে থাকতে পায় না। এসব প্রশ্ন করলেই তো সেই ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আশা দাঙ্গা, তারও আগের হাজার বছরের জাতপাতের সমস্যা, দেশভাগ, উদ্বাস্তু করা মানুষকে সব চলে আসবে। সেখানে তিলোত্তমার বর্তমান হিন্দু মৌলবাদী সন্ত্রাসবাদী বাপ-মায়েদের কথা চলে আসবে, আসবে তাদের ভূমিকার কথা। অথবা সে এতটাই অশিক্ষিত যে দেশের ইতিহাস-ভূগোলও পড়েনি ঠিক করে। বা পড়তে চায়নি। দেশ দেখতে, মানুষ দেখতে বেরোয়নি কখনো। বাউলের নামে যৌনতা বিক্রি করে লেখক হয়েছে। 

 

সুতরাং তিলোত্তমা এসব বলবেই। সাহিত্যে ওর ভূষিমাল টিকবে না। পুরস্কার বিজুদের পা চেটে পাবার প্রবল আকাঙ্ক্ষা আছে। সাহিত্য পুরস্কারই হোক কিংবা এম এল এ, এম পি ইত্যাদি হওয়া। অথবা মুখ্যমন্ত্রী মুখ হওয়া। কিছু কামাই তো হবেই যখন কেন্দ্রে বাপেরা আছে।

 

কিন্তু তিলোত্তমা একা নয়। বাংলা সাহিত্যের আঙিনায় এমন সাম্প্রদায়িক মালেরা ব্রিটিশ আমল থেকে আজও দিব্য আছে। নানা ধরণের সাম্প্রদায়িকরা আছে। জাতপাত, হিন্দু-মুসলমান মানা মালেরা করে-কম্মে খেয়েও গেছে। এখনো খাচ্ছে। এই লাইন ধরলে বড়বাজারের রাস্তা খুলে যায় অনেকেই জানে স্পষ্ট। উল্টোদিকের জীবন খুব কঠিন, জটিল এবং অসম্ভব লড়াইসাপেক্ষ। কে যায় সেদিকে! তিলোত্তমা ওদের টেস্ট কেস। যদি সফল হয় আরো অনেককে খুল্লমখুল্লা ঐ একই ট্রেনে উঠে পড়তে দেখবেন অদূর ভবিষ্যৎ-এ।

 

আরেক ভবিষ্যৎ আছে। সেখানে আবার এসবের হিসেবও হবে। কেউ বাদ যাবে না সেদিন।

শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ
শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ

সাহিত্যিক,নাট্যকর্মী