# হঠাৎ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পরিবর্তন হলো এটাকে তুমি কিসের ইঙ্গিত বলে মনে করছো? কোথাও কি সিঁদুরে মেঘ দেখতে পাচ্ছ?
= দেখো, অমিত শাহজীর ঢাক ঢাক গুড় গুড় নেই। তিনি সোজাসুজি ক্রোনোলজি বুঝে নিতে বলেন। "আপ ক্রোনোলজি সমঝিয়ে"। সোজাসুজি বলেন "ও তো জুমলা থা"। তাই ঘটনাগুলো অনেকটা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়। তোমাকে ক্রোনোলজি বুঝে নিতে হবে। তাই রাজ্যপাল পরিবর্তন থেকে বুঝতে শুরু করলে হবে না, ধরতে হবে আরো আগে থেকে। বিবেচনায় রাখতে হবে আরও পরের ঘটনাসমূহ।
# তারমানে আগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে রাজ্যপালের পরিবর্তন সম্পর্কিত? আগের ঘটনা বলতে এস আই আর, নাম বাদ দেওয়া, কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো, এসব বোঝাতে চাইছো?
= বিষয়টা এত ওপর ওপর না। আরো আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনটা ভাবো। বিশাল সংখ্যক তৃণমূল মন্ত্রী বিধায়কের দলত্যাগ। বিজেপি প্রায় ২০০ আসন জিতেই বসেছিল, মন্ত্রিসভাটা প্রায় করেই ফেলেছিল, শুধু শপথ নেওয়াই বাকি ছিল। কিন্তু ঘটলো বিপরীত। উল্টে যেটা হলো, বিজেপির ৭৭ জন বিধায়কের কেউ কেউ দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলো। এখন বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা ঠিক কত, বিজেপি নিজেও জানে না। কর্মী নেই, সব বুথে এজেন্ট দিতে পারেনা। আরে বাবা বুথ দখল করতে গেলেও তো লোক লাগে। জমায়েতে ভিড় করতে নগদ টাকা দিয়ে নিয়ে যেতে হয়। ইডি, সিবিআই দিয়ে ভয় দেখিয়ে পাঁচ দশটা নেতা হাত করা যায়। কিন্তু মানুষ ও তার সক্রিয় সমর্থন, জনভিত্তি, এসব কিছুই নেই। তাই বলে বিজেপি কি বাংলার নির্বাচনে ওয়াক ওভার দেবে?
# বেশতো বুঝলাম ওয়াক ওভার দেবে না। তার জন্যই তো রথযাত্রা, হিন্দু ভোটের মেরুকরণ, উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রচার, এইসবের আয়োজন। বিজেপি তার পুরনো আখ্যানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে "হিন্দু খতরে মে হ্যায়"। রামের জন্মস্থান, কর্মস্থান ইত্যাদি, খুঁজে খুঁজে নতুন কোন্ মসজিদের নিচে মন্দির আবিষ্কার করার প্রয়াস, আর মুসলমান রোহিঙ্গা পাকিস্তান অনুপ্রবেশকারী। কোনো প্রচারে খামতি নেই।
= যেগুলো বলছো সেগুলোতো বিজেপির লাইফ লাইন। কিন্তু ২০২৪ এর নির্বাচন মনে করে দেখো। খোদ অযোধ্যায় বিজেপি গোহারা, উত্তর প্রদেশে বিজেপির ফলাফলটা ভাবো। বিজেপি জানে, বলতে পারো বুঝে গেছে, উগ্র হিন্দুত্বের কর্মসূচি নিয়ে ক্ষমতায় আসীন হওয়া সম্ভব না। সংখ্যাগুরুর সম্পূর্ণ তো ছেড়েই দাও, ৭০ শতাংশের মন জয় করতে পারবে না। হিন্দু ধর্মটা এমন সমসত্ত্ব, একবগ্গা (হোমোজিনিয়াস) নয়। তাদের মধ্যে অসংখ্য আত্মপরিচয় আছে। কোনো বিশেষ একটি ঘটনায় "সাময়িক ভাবে" এককাট্টা হতে পারে। তাহলে তো হিন্দুত্বের অস্ত্রটাকে মাঝে মাঝেই শান দিতে হবে। সেই শান হলো, হয় পাকিস্তানের সাথে বিরোধ, অথবা নিয়ম করে দুটো চারটে বিস্ফোরণ ও পুলওয়ামা পহেলগাঁও। অথবা যত্রতত্র সম্প্রদায়িক দাঙ্গা। আর ছুঁরিতে বেশি শান দিতে থাকলে একসময় শুধু হাতলটা অবশিষ্ট থাকে। এটা শাসকের পক্ষে খুবই অস্বস্তিকর। তাই খেয়াল করো ২০১৪ এর নির্বাচনের পর বিজেপি ভোট ডাকাতি, ভোট লুট, করার সমস্ত রকম ফন্দিফিকির খুঁজে বের করে। যেকোনো ভাবে একবার লুট করে ডাকাতি করে বৈধ ক্ষমতায় আসার পর, তখন হিন্দুত্বের কর্মসূচির মূল লক্ষ্যে এগোনো যাবে। এই কৌশলে সে সফল হয়েছে, মহারাষ্ট্রে, দিল্লিতে, বিহারে। এবার লক্ষ্য বাংলা।
# আর মানে ছলে বলে কৌশলে, সম্পূর্ণ অনৈতিক পথে, ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু প্রচারে থাকবে উগ্র হিন্দুত্ববাদ। জয়লাভের পর প্রমাণ হবে উগ্র হিন্দুত্ববাদ জয় লাভ করেছে। তা না হলে তো অযোধ্যায় বিজেপির পরাজয় যেমন রাম মন্দির ইস্যুর গালে কালি লাগিয়েছে, সেটাই সত্য হয়ে যাবে। এটা তুমি ঠিকই বলেছ। কিন্তু মহারাষ্ট্র দিল্লি বা বিহারে যেটা সম্ভব হলো, বাংলায় কি তা সহজে সম্ভব হবে?
= হবে না বলেই তো এখানে কৌশল বদল করা হচ্ছে। তুমি কিছু নির্দিষ্ট গো হারা বুথ জ্যাম করে প্রতিপক্ষের ভোট দান বন্ধ করতে পারো। কিন্তু তার জন্য সংগঠন লাগে। অনেক মানুষের জমায়েত লাগে। যা এ রাজ্যে বিজেপির পক্ষে সম্ভব না। তাই বিজেপি ঠিক করেছে ভোটের আগেই প্রতিপক্ষের ভোটারদের নাম যে কোন উপায়ে তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। তাহলে আর বুথ জ্যাম করতে হয় না, বুথ দখল করতে হয় না। অর্থাৎ আমি বলতে চাইছি, এটা হল একটা রিগিং। কিন্তু ভোটের আগেই এই রিগিং সেরে ফেলা হচ্ছে। এটা সম্ভব হচ্ছে নির্বাচন কমিশন ইয়েস স্যার বলে। তাকে দিয়ে যা খুশি করানো যাচ্ছে।
# হ্যাঁ ঠিক সেই কারণেই ইয়েস স্যার কমিশন নিয়োগের জন্য নিয়োগ নীতিটাই বদলানো হয়েছিল। আগে সুপ্রিম কোর্ট, সরকার এবং বিরোধী দল, এই তিনজনের তিন প্রতিনিধি নির্বাচন কমিশন নিয়োগ করতো। মোদি আইন পরিবর্তন করে, সুপ্রিমকোর্টকে বাদ দিয়ে, সরকার পক্ষের দুজন প্রতিনিধি ও বিরোধী দলের একজন এই তিনজনকে নিয়ে কমিটি তৈরি করেছে। ফলে এবার ২ : ১ ভোটে সরকার নিজের পছন্দের কমিশন নিয়োগ করতে পারছে। জো হুজুর Yes SIR কমিশন।
= তাহলেই বোঝো সলতে পাকানোর কাজটা সবসময় অনেক আগে থেকে শুরু হয়। এবার ভাবো প্রথম দফায় বিজেপির কাঙ্ক্ষিত নাম বাতিলের টার্গেট পুরন হলো না। ফলে একটা নতুন যুক্তি আমদানি হল, লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি। এর বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সরব হলো। মুখ্যমন্ত্রী নিজে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হলেন। সুপ্রিম কোর্ট দ্রুত হস্তক্ষেপ করে বিচার বিভাগের তত্ত্বাবধানে কমিটি তৈরি করে ভোটার তালিকা তৈরির পরামর্শ দিলো। এখন বোঝাই যাচ্ছে যে বিচার বিভাগের পক্ষে এত অল্প সময়ে ৬০ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই করাটাই একটা অসম্ভব কাজ। সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট বা বিচার বিভাগ কি সিদ্ধান্ত নিতে পারে তুমি বলো?
# যতটা বাছাই করা সম্ভব হলো তো হলো। বাকিদের বেনিফিট অফ ডাউট হিসেবে আইনের সাধারণ নিয়মে আপাতত এই ২০২৬ এর ভোটে ছাড় দেওয়া হতে পারে। বিচার অসমাপ্ত রেখে তো কাউকে মুন্ডচ্ছেদ করা যায় না। তাহলে বিচার অসম্পূর্ণ রেখে ভোটাধিকার হরণও করা যায় না।
= বেশ এটা একটা সম্ভাবনা। বিচার বিভাগের আর কি দ্বিতীয় পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত হতে পারে?
# বিচার বিভাগ বলতে পারে যেহেতু এত অল্প সময়ে সব কাজটা সম্পূর্ণ হচ্ছে না, তাই ২০২৫ এর ভোটার তালিকা বা খসড়া ভোটার তালিকাকেই গ্রাহ্য ধরে নিয়ে সেই তালিকায় এবারের ভোট সম্পন্ন করা হোক। তারপর ধীরে সুস্থে সমগ্র বছরব্যাপী তালিকা সংশোধন করা যাবে।
= একদম ঠিক বলেছ। ঠিক সেই ক্ষেত্রে বিজেপি কি আরও পাঁচ বছরের জন্য অপেক্ষা করবে? কখনো নয়। রাজ্যে একটা অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করবে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাবে, চেষ্টা করবে কোথাও কোথাও দাঙ্গা লাগিয়ে দেওয়ার। খেয়াল রেখো এ রাজ্যের পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়াতে দেয়নি। তাই আগেভাগে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা কেন্দ্রীয় নির্দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, উত্তেজনা ছড়াতে সিদ্ধ হস্ত। তার প্রমাণ হাতে গরম মণিপুর। আর সুপ্রিম কোর্ট যদি কাল বিলম্বের প্রক্রিয়া টেনে নিয়ে চলে, তবে তো বর্তমান রাজ্য সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তখন খুব "ন্যায় সঙ্গত কারণে" রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ ঘটবে।
# ঠিকই বলেছো মনে হয়। কারণ বেশি আগে থেকে বাহিনী এনে, রুট মার্চের নামে, সমগ্র এলাকা চিনে নিতে, বুঝে নিতে বাহিনীর অনেক সুবিধা করা হচ্ছে। তা না হলে ভোটের ঘোষণা হলো না, কবে হবে, কতো দফায় হবে তার ঠিক নেই, অথচ সাত তাড়াতাড়ি বাহিনী এসে হাজির। এ যেন সম্বন্ধ দেখা চলছে, আর প্যান্ডেলের বাঁশ এসে হাজির হয়েছে। যদি দেখি ভোটের দিন বা আগের দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী মহল্লায় মহল্লায় গিয়ে, ভোটারদের হাতে আগাম কালি লাগিয়ে বলছে, তোমাদের ভোট হয়ে গেলো। আমি অবাক হবো না। মনে আছে ১৯৯৬ সালে বালি বিধানসভায়, মাত্র তিনটি ছেলে, গায়ে শার্ট, পরনে লুঙ্গি। লুঙ্গিটা অর্ধেক তুলে কোমরের কাছে বাঁধা। আর সেই লুঙ্গির মধ্যে ধোঁয়া আর শব্দ প্রধান পেটো। খই ছড়ানোর মতো করে, রাস্তার এপাশে, ওপাশে, বুথের কাছে, ছড়ালো। মুহূর্তে বুঝ ফাঁকা। ভোট কর্মীরা টেবিলের আড়ালে। ওই তিন-চার জন ঘন্টাখানেক ভোট দিয়ে গেল নাগাড়ে। সব বুথে শান্তিপূর্ণ ভোট হলো। বাছাই করা ৩০-৪০ টা বুথে এভাবে এক-দেড় ঘণ্টা ভোট হলেই কেল্লাফতে। অন্যান্য লোকজনকে তুমি বিশ্বাস করাতে পারবে না কি ঘটলো। তারা বলবে, "আমরা তো বেশ ভালোভাবেই ভোট দিলাম, কোন সমস্যা তো হয়নি"। এটাকেই বলে বলা হয় সায়েন্টিফিক রিগিং। আর ডিজিটাল ইন্ডিয়ার রূপকার এই সায়েন্টিফিক রিগিংকে লজিক্যাল করে তুলেছে। আগেই মুন্ডচ্ছেদ করো, মাথাই যদি না থাকে, মাথা ব্যথাও থাকবেনা।
= আবার ভাবো, যখন কূটনীতির খেলাটা জোরালো থাকে, তখন কূটনীতিতে দক্ষ বিসমার্ক ক্ষমতাসীন হন। আবার যখন কূটনীতি নয়, রণংদেহি, হামলা, হুমকির প্রয়োজন হয়, যুদ্ধ বাঁধানোর প্রয়োজন হয়, তখন বিসমার্কের অপসারণ হয় এবং ক্ষমতায় আসেন প্রিন্স অফ হোহেনলোহে, ক্লোডউইগ কার্ল ভিক্টর। বিসমার্ক থাকলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ টা বাঁধানো যেত কিনা সন্দেহ আছে। কারণ বিসমার্ক ভারসাম্য রক্ষার কূটনীতিটা ভালো বোঝেন। আসলে কোচকে বুঝে নিতে হয়, খেলা এক্সট্রা টাইমে গড়াতে যাচ্ছে। তার মানে, টাই ব্রেকিংও হতে পারে। তাহলে একজন ভালো পেনাল্টি শ্যুটার কে নামাও, ডিফেন্ডার তুলে নিয়ে অফেন্সটা বাড়াও। এইসব মনে রাখতে হবে। নতুন রাজ্যপাল রবি প্রাক্তন আইপিএস অফিসার। অর্থাৎ বাহিনী পরিচালনা, দাঙ্গা হাঙ্গামা, প্রয়োজন মতো নিয়ন্ত্রণ করা, এসবে অভিজ্ঞ ও দক্ষ। তাসের খেলায় খেলোয়াড়ের নিজের হাতে তেরোটা তাস থাকতে পারে। কিন্তু হিসেবে রাখতে হয় ৫২ টা তাসের সম্ভাবনার কথা। কি হতে পারে, তাহলে কোনটা খেলবো। এটাই হচ্ছে অমিত শাহের "ক্রোনোলজি সমজিয়ে"।
# কথাটা ঠিকই। না হলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকেও এভাবে নির্বাচনী প্রচারে নামিয়ে দেওয়া ভাবাই যায় না। যিনি নাকি রাষ্ট্রের সাক্ষীগোপাল আনুষ্ঠানিক প্রধান। তিনি বিজেপি দলের রাজনৈতিক নেতার মতো বক্তব্য রেখে গেলেন। এমনকি একটা হাওয়া তোলা হচ্ছে, পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী নাকি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অপমান করেছেন। কত হাস্যকর অভিযোগ ভাবো যে, সংসদের উভয় কক্ষের শীর্ষে আসীন রাষ্ট্রপতি। সেই সংসদের নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আমন্ত্রিত ছিলেন না। উদ্বোধনটি হয়েছিল মোদিজীর হাতে।
= তার নির্দিষ্ট কারণ ছিল, প্রথমতঃ দ্রৌপদী মুর্মু জাতিগত দিক থেকে আদিবাসী ও প্রান্তিক। আরএসএস তাকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখে। দ্বিতীয়তঃ তিনি মহিলা, আরএসএস মহিলাদের তুচ্ছ জ্ঞান করে। তৃতীয়তঃ রাষ্ট্রপতি উপস্থিত থাকলে প্রধানমন্ত্রী কে দিয়ে উদ্বোধন করানো নিয়ে প্রশ্ন জাগতে পারে। তাই আমন্ত্রণ জানানোই হয়নি।
# সেটা তো ঠিকই বলেছো। কথা হল, তখন রাষ্ট্রপতির কোন অপমান হয়নি। তাহলে এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কি করে বুঝবেন, রাষ্ট্রপতির অপমান বোধ আছে কিনা। তবে এটা বেশ বুঝতে পারছি, এই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি অপমানিত হয়েছেন, এমন একটা হাওয়া তুলে গদি মিডিয়া, ভবিষ্যতের রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রটাকে জলসিঞ্চন করছে।
= শুধু তাই নয় উনি এসে বলে গেছেন, পশ্চিমবাংলায় নাকি আদিবাসীরা অ-সুরক্ষিত। তাদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আমি একটামাত্র উদাহরণ আনবো -- সাংবাদিক অশোক ওয়াংখেড়ে লিখেছেন : "during a meeting with President Droupadi Murmu, the then-Governor Anusuiya Uikey cried and pleaded for 45 minutes, seeking urgent intervention to stop the violence in Manipur." অর্থাৎ সোজা বাংলায়, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাথে এক বৈঠকের সময়, তৎকালীন মণিপুর গভর্নর অনুসূয়া উইকেয় ৪৫ মিনিট ধরে, কেঁদে ফেলে, মণিপুরে সহিংসতা বন্ধ করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি কি করেছিলেন? তিনি কি মনিপুরে গিয়েছিলেন? তিনি তো সেনাবাহিনীর প্রধান, তিনি সেনাবাহিনীকে কিছু কি নির্দেশ দিয়েছিলেন? আজ বলা হচ্ছে, মানে বলতে বলা হয়েছে, বাংলায় আদিবাসী জীবন বিপন্ন। কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্টে প্রকাশ যে সারা ভারতে আদিবাসীদের ওপর অত্যাচার পীড়নের যে হার, সেই গড় হারের চেয়ে পশ্চিমবাংলায় পীড়নের হার কম। রাষ্ট্রপতির নিজের রাজ্য ওড়িশা এক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহার, ডবল ইঞ্জিনের রাজ্যে পরিস্থিতিটা ঠিক কি রকম তিনি জানেন না?
# আচ্ছা। সব দেখে শুনে, এখন তো মনে হচ্ছে হঠাৎ করে রাজ্যপালকে পদত্যাগ করিয়ে নতুন রাজ্যপাল নিয়ে আসা, হঠাৎ করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ভোটের প্রচারে নামিয়ে, একটা অপমান, গেল রব তোলা, সাত তাড়াতাড়ি দুমাস আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা, এসবই একটা বৃহৎ পরিকল্পনার অঙ্গ। সেটাই কি মনে হচ্ছে না?
= ঠিক সেইটাই মনে হচ্ছে। তাই বলছিলাম, প্রথম প্রয়াস টা নিবিঘ্নে নির্বাচন কমিশন সম্পন্ন করতে পারলে, বাকি বিকল্পগুলো প্রয়োজন হবে না কিন্তু বিষয়টা বিচার বিভাগের অধীনে চলে যাওয়ায়, একটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যদি কাঙ্খিত সংখ্যক নাম বাতিল না হয়, সেই আশংকায় অন্যান্য বিকল্পগুলি প্রয়োগের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে রাখা হচ্ছে। সেই সত্য বাক্য মনে রেখো, "ক্রোনোলজি সমঝিয়ে"।